ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকরের ভূমিকা।

Share This Information

ভূমিকাঃ ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকরের ভূমিকা মুসলিম বিশ্বে একটি গৌরব। ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকরের ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হলো।

পরিচয়ঃ আবু বকর (রা) ৫৭৩ খ্রিঃ বিখ্যাত কুরাইশ বংশের তাইম গোত্রের পবিত্র মক্কা নগরীতে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বাল্য ছিল আব্দুল্লাহ ও কুনিয়া এবং প্রকৃত নাম আবু বকর। তাঁর পিতার নাম ছিল ওসমান এবং মাতার নাম উম্মুল খায়ের সালমা। রাসুল (স) তাঁকে সিদ্দিক উপাধি দেন। এছাড়া তিনি দান শীলতার জন্য আতিক উপাধি পান।

ইসলামের ত্রাণকর্ত হিসেবে আবু বকর খিলাফতের গ্রহণের পূর্বেঃ
ইসলমা ধর্ম গ্রহণ: রাসুল (স) ৬১০ খ্রিঃ হেরা পর্বত গুহায় নবুয়ত লাভের পর মানুষকে যখন ইসলাম গ্রহণের জন্য দাওয়াত দেন। তখন আবু জাহেল সায়বা এর বিরোধিতা করে। কিন্তু আবু বকর বিনা দ্বিধায় ইসলাম গ্রহণ শরিক হন। এ সম্পর্কে মহানবী (স) বলেন,
“যাকে আমি ইসলামের দাওয়াত দিয়েছি, তাদের প্রত্যেকেই ইসলাম কবুল করার ব্যাপারে কিছু না কিছু দ্বিধা; চিন্তা করেছে, আবু বকর বিন কুহাফা এর ব্যতিক্রম। আমি যখন তাঁর সম্মুখে এ কথা পেশ করলাম তখনই তা করতে যেসন তাকে প্রতবিন্ধকাতার সম্মুখীন হতে তেমনি এ ব্যাপারে তিনি কিছুমাত্র ইতস্তত বোধ করেনি।



ইসলামের প্রচার ও প্রসারঃ ইসলাপম প্রচারের তিতি সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছেন এবং হযরত ওমর বলেন, “ইসলামের সেবায় কেউ তাঁকে অতিক্রম যুবাইর, আব্দুর রহমান বিন আউফ, সাদ ইবনে আবি আক্কাসের মত খ্যাত নামা ব্যাক্তিগণ ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ও মাতাকে ইসলামের আনেন।
নির্যাতন ভোগঃ প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচারের জন্য তিনি কুরাইশদের দ্বারা প্রহৃত হন। ইসলামের স্বার্থে কর তিনি মহানবীর আদেশে স্বদেশ ত্যাগ করে সুদ্দর আসিনায় যেতে ও প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু কুরাইশদের নির্যাতন সম্য করতে ও তিনি হযরতের প্রিয় সঙ্গীরূপে মক্কায় অবস্থান করেন।

রাসুল (স) এর বিপদের বন্ধুঃ আবু বকর ছিলেন রাসূলের বাল্যকালের স্বার্থী। ইসলাম গ্রহণের পর বিপদে আপদে সুখে, দুঃখে ছিলেন একমাত্র অনুগত ও বিশ্বস্ত সাহাবী হিযরতের সময় চরম দুর্দিনে রাসুল (স) তাকেই সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করেন। রাসুল (স) বলেন, “যদি আল্লাহ ব্যাতীত আর কাউকে বন্ধু বলতাম তাহলে আবু বকরকেই বলতাম।

ইসলামের জন্য দান ও গোলাম মুক্তকরণঃ ইসলাম তথা মহানবীর জন্য আবু বকর তার সব্র্স্ব বিলিয়ে দিতে। কুণ্ঠাবোধ করেন। নি। ইসলামের জন্য আবু বকর তাঁর অধিক অর্থ অকাতরে ব্যয় করেন। নবী করীম (স) এ বিষয়ে তাঁকে প্রশ্নে করলে, তুমি তোমার পরিবারবর্গের ভরণ পোষনের জণ্য কি রেখেছ? উত্তরে তিনি বলেন, আল্লাহ তাঁর রাসূল।
মদিনায় মসজিদ গৃহ ও মহানবীর বাসগৃহ নির্মাণ এবং তাঁবুক অভিযান ও অন্যান্য ব্যাপারে তিনি একাই ব্যয়ের বৃহত্তর অংশ বহন করেছিলেন। মহানবী (স) নিজেই বলেছিলেন। আবু বকরের ধন সম্পদ ব্যতিত অন্য কারো ধনসম্পদ আমার এত উপকারে আসেনি। তাঁর বেলালসহ যে সব গোলাম ইসলাম কবুল করে মনিবদের নির্যাতন ভোগ করেছিলেন, আবু বকর তাদের খরিদ করে মুক্ত করতেন।

জিহাদে অংশগ্রহনঃ কুফরি শক্তির হিং¯্র হানা থেকে ইসলামকে রক্ষা করার জন্য তিনি প্রথম অনুষ্ঠিত বদর যুদ্ধ থেকে শুরু করে উহুদ, খন্দক, ছিলেন। যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে রাসূলের পাশে ছিলেন। এ ছাড়া হুদায়বিয়া সন্ধি স্বাক্ষর ও মদিনা বিজয়েরর সময় তিনি মহানবীর পাশেই ছিলেন।

খিলাফত গ্রহনের পরঃ
খিলাফত গ্রহণঃ রাসুল (স) এর কোন পুত্র সন্তান জীবিত না থাকায় গনতন্ত্রে বিশ্বাসী রাসুল কাউকে উত্তরাধিকার দেখ দয়ে। পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলেও আবু বকরকে মনোনীত করেন। কারণ আবু বকর ছিলেন যোগ্য ব্যক্তি। বায়োজ্যেষ্ঠতা, বিজ্ঞতা, রাজনৈতিক জন্য অকাতরে দান, যোগ্যতার বিচারে আবু বকর (রা) খলিফা নির্বাচিত হন। এবং শপথ গ্রহণ করেন ঐতিহাসিক খোদা বক্স বলেন, The Death of the prophet foreboded a dangerous and doubtful career of Islam.

উদ্বোধণী ভাষণঃ খিলাফতের গ্রহণের পর আবু বকর এর হৃদয়গ্রাহী উদ্বোধনী ভাষণে বলেন “হে মুমীন গণ আমি তোমাদের অপেক্ষা কম গুণ সম্পন্ন। তোমাদের সর্বপ্রকার সাহায্য ও পরামর্শ আমার প্রয়োজন। আমি আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের নির্দেশিত পতে চলি তাহলে সমর্হণ করবেন আর যদি আল্লাহ ও রাসুলের কানুন অমান্য করি তবে আমাকে পরিত্যাগ করবেন। মোহাম্মদ আলী বলেন, ঊধপয ড়িৎফ ড়ভ রিংফড়স ধহফ সধহু সধু বিষষ ংবৎাব ধং ধ নবধপড়হ ষরমযঃ ঃড় ঃযব গঁংষরস ড়িৎষফ.
গণতন্ত্রের পতাকা বহনঃ হযরত আবু বকর (রা) গণতন্ত্রের পূর্ণ বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি জনগণের পরামর্শ ও ক্ষমতা নিয়ে যাবতীয় কর্মাদি সমাধান করতেন। তার নিকট এক খলিফা ও একজন সাধারণ মানুষের মধ্যে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে কোন পার্থক্য ছিলনা। মোহাম্মদ আলী বলেন,Each word of wisdom and many may well serve as a beacon light to the Muslim world.

ভন্ড নবীদের আগমনঃ মহানবী (স) এর ইন্তেকালের পর যে সকল অঞ্চলে ইসলাম পৌছায় নি সেখানে বি আনসি মুসায়লামা, তুলায়হা, সাজাহ ছির উল্লেখ যোগ্য। এদের দমন করে আবু বকর ইসলামকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করেন।
আবু বকর ও স্বধর্ম ত্যাগ আন্দোলনঃ হিজাজ রাজধানীর প্রাধান্যের কারণে মওমুসালিমগণ মহানবীর ইন্তেকালের আবার নিজেদের ধর্মে ফিরে যান একে বলা হয় রিদ্দা আন্দোলন। রিদ্দা আন্দোলনের কারণ হিসেবে বলা হয়।
১। ইসলাম সম্পর্কে অসম্পূর্ণ জ্ঞান।
২। পরিবর্তন বিরোধী মনোভাব।
৩। ইসলামের ব্যাপক প্রচারের অভাব।
৪। নবুয়তের প্রতি লোভ।
৫। আইনের কঠোরতা।

এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সম্পন্ন হয় এবং মুসলিমরা জয়লাভ করেন। এ যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে যে ফলাফল হয়
১। ইসলামের শক্তি বৃদ্ধি।
২। পৌত্তলিকতায় অবসান।
৩। শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠন।
৪। রাজ্য বিস্তারে সাহায্যে দান।
৫। যাকাত দানে সম্মতি।
আবু বকর (র) সকল বিশৃঙ্খলা কারীদেতর দমন করে দেশে ইসলামের সুদৃঢ় করেন।

কুরাআনের বাণী সংগ্রহঃ ৬৩৩ খ্রিঃ সংগঠিত ইয়ামামা যুদ্ধে ৩০০ কুরানের হাফেজ শহীদ কুরআনের বিলুপ্তির আশঙ্কা দেখা দের তীব্রভাবে দেখা দেয়। কেননা তখনও কোরআন সংকলন হয় নি। এমতাবস্থায় মহানবীর বিশিষ্ট ওহী লেখক ও হাফেজ যায়েদ ইবনে সাবিতকে কুরআনের বাণী সংরক্ষণ করে পুস্তকারে লিপিবদ্ধ করে রাখার নির্দেশ দেন।

মদীনার রক্ষনাবেক্ষণঃ সিরিয়ার অভিযান প্রেরিত হলে তিনি মদীনাকে সুরক্ষিত করার জন্য আলী ও তালহাকে প্রহরীদলের অধিনায়ক নিযুক্ত কবে ইসলামী রাষ্ট্রের প্রাণকেন্দ্র মদীনা রক্ষার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সিরিয়া অভিযানের সুযোগে বিদ্রোহী আরব গোত্র বনু আম এবং বনু ধবিয়াম ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা করলে তিনি নিজে অভিযান করে বেদুঈনদের পরাজিত ও বিতাড়িত করেন।

সিরিয়া অভিযানঃ মহানবী (স) এর জীবদ্দশায় বাইজান টাইল সা¤্রাজ্যের শাসনকর্তা সোহরাবিলের বিরুদ্ধে অভিযানে জায়েদ বিন হারিস শহীদ হলে মহানবী (স) পুনরাভিযানের জন্য হারিসের পুত্র উসামাকে সেনাপাতি মনোনীত করেন। ইতিমধ্যে আবু বকর খলিফা নির্বাচিত হয়ে ৬৩২ সালে উসামার নেতৃত্বে অভিযানটি প্রেরণ হয়ে ৬৩২ সালে উসামার নেতৃত্বে অভিযানটি এ থেকে বুঝা যায় নবী করীম (স) এর উপর আবু বকরের যে দৃঢ় ও অটল বিশ্বাস ছিল। তা সিরিয়া অভিযানে প্রমানিত হল। অন্যদিকে এ বিজয় মুসলমানদের শক্তিও সাহসকে শতগুণে বৃদ্ধি করল।

পারস্য অভিযানঃ রিদ্দার যুদ্ধের সময় পারসিকগন বাহরাইরের বিদ্রোহীদের সাহায্য করায় খলিফা ৬৩৩ হিযরতে মুসাল্রাহ ও খালিদকে প্রেরণ করলে তারা উবাল্লার হাফির নামক স্থানে পারসিক সেনাপতি হরমুজকে পরাজিত করেন। এর পর মুসলিম বাহিনী দূর্গ দখল করে যাকে মহিলার দূর্গ বিজয় যুদ্ধ বলে।

চারিত্রিক দৃঢ়তাঃ রাসুল করীম (স) এর ওফাতের পর তাঁর পরিবারের ভরণ পোষণের জন্য নির্দিষ্ট ফিদক নামক সম্পত্তটি বন্যা ফাতেমা স্বীয় উত্তরাধিকারে আনতে চাইলে আবু বকর (রা) এ দাবি অগ্রাহ্য করেন এবং একে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে পরিণত করেন। মুসলমানদের যাকাত প্রদাম সম্পর্কে তিনি স্বার্থহীন কণ্ঠে একবার বলেছিলেন, “রাসুলের যুগে যেসব জিনিসের যাকাত দেওয়া হত তার এক রত্তি ও আজ যারা দিতে অস্বীকার করবে। আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব এবং কেউ সঙ্গী না হলে আমি একাই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব। এসব ঘটনা তার নিরপেক্ষতা ও চারিত্রিক দৃঢ়তার পরিচয় বহন করে। ঐতিহাসিক মোঃ আলী বলেন,In the subordinating kingship to the land and federation of a truly democratic govt. as also of libe and equality in the truest sense of the word.

মূল্যায়নঃ যে সংকটময় মূহুর্তে ইসলাম ও ইসলাম রাষ্ট্রকে রক্ষা করার পশ্চাতে আবু বকরের অবদান তা বিবেচনা করলে তাঁকে নিঃসন্দেহে ইসলামের রক্ষাকারী ( ) বলা যায়। সমগ্র মুসলিম জাহান হযরত আবু বকরকে যুগ যুগ ধরে ইসলামের ত্রানকর্তা বা রক্ষাকারীর মর্যাদা দিয়ে আসছে। যতদিন পৃথিবী আছে। যতদিন ইসলাম আছে, ততদিন হযরত আবু বকরের এ গৌরব চির আম্লান হয়ে থাকাকে।



উপসংহারঃ মহানবী (স) এর ইন্তেকালের পর খোলাফায়ে রাশেদিন এর শাসনামল ইসলামের ইতিহাস এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ইসলাম এবং মুসলিম রাষ্ট্রের এবং সংকটময় মুহূর্তে আবু বকর (রা) প্রথম খলিফা হিসেবে অধিষ্ঠিত থেকে ইসলাম ধর্ম এবং মুসলিম রাষ্ট্রকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে অরাজকত, বিশৃঙ্খলা, প্রতারণী, ভন্ডামী, বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন, ধর্ম ও দেশদ্রোহীতার সংকটময় পরিস্থিতি তিনি যোগ্যতা ও দৃঢ়তার সাথে মোকাবেলা করে না।
আব্দুল্লাহ ইবনের মাসউদ বলেন, “এরূপ মুসিবের সময় হযরত আবু বকরের মত খলিফা না থাকলে ইসলাম ও ইসলামী রাষ্ট্র কোনটিই কবলে পেত না। মুসলিম ধর্ম ও সমাজ অনিবার্য ধ্বংসের কবলে পড়ে যেত।”

Share This Information