ধর্ম বনাম রাষ্ট্র

Share This Information

সময়ের পরিক্রমায় ধর্ম এবং রাষ্ট্র উভয়েই মানুষের কল্যাণের জন্য মানুষ কর্তৃক সৃষ্ট।
দুটোর মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হচ্ছে একটা মানুষের পরকালীন কল্যাণের উপর জোরারোপ করেছে বেশি আর অন্যটা ইহাজগতিক কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়েছে।
রাষ্ট্র অপেক্ষা ধর্ম অপেক্ষাকৃত স্পর্শকাতর বিষয়। কথা হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মের ব্যবহার কতোটুকু হওয়া উচিত বা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ধর্মের প্রাধান্য কতোটুকু হওয়া উচিত?

একটি রাষ্ট্রে একাধিক ধর্মাবলাম্বীর মানুষ বসবাস করতে পারে আর একটি ধর্মে কেবল একই ধর্মাবলাম্বীর লোকেরা বিশ্বাস স্থাপন করে আর সেই বিশ্বাসের চর্চা করে।
২০১৩ সালের দিকে হেফাজতে ইসলামী আন্দোলন করে সরকারের নিকট আবেদন করেছিলো যে শিয়া সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা করার জন্য !
কথা হচ্ছে ভিন্ন ধর্মাবলাম্বীর লোকের বসবাস যে রাষ্ট্রে সেই রাষ্ট্র কি কোনো ভিন্ন সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা করার অধিকার রাখে?

এভাবে নানান সময়ে নানান গোষ্ঠী তাদের ভিন্ন মতাবলাম্বীদের বিরুদ্ধে চড়াও হয়েছে এবং তাদেরকে নাস্তিক,ধর্মদ্রোহী ট্যাবু দিতে রাষ্ট্রকে জোরারোপ করেছে।
রাষ্ট রাষ্ট্রে বসবাসকারী সকল ধর্মের মানুষরা যেনো সুস্থভাবে তার স্বতন্ত্র ধর্ম পালন করতে পারে সেই পরিবেশ বজায় রাখার দিকে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাবে।
রাষ্ট্র কোনো আলাদা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের রীতি নীতি তার জাতীয় পর্যায়ে চরিতার্থ করার জন্য চেষ্টা করলে সেটা রাষ্ট্রের জন্য ভালো ফলাফল বয়ে আনে না।

রাষ্ট্র সকল ধর্মের লোকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে। ধর্ম বা সম্প্রদায় দিয়ে রাষ্ট্র কাউকে বিবেচনা করবেনা বা রাষ্ট্র কোনো একক ধর্মের সাফাই গেয়ে সেই ধর্ম প্রতিষ্ঠায় মগ্ন হবে না।
রাষ্ট্রীয় বাচ বিচারে আপনি নাস্তিক কি আস্তিক, আপনি সংখ্যাগরিষ্ঠ নাকি সংখ্যালঘিষ্ঠ ধর্মের লোক সেটা দেখার বিষয় নয় বা সেইভাবে দেখে না ! রাষ্ট্র দেখে রাষ্ট্রীয় জনগণকে।
রাষ্ট্র বিচার করে রাষ্ট্রীয় বিচার পদ্ধতিতে। রাষ্ট্র দেখবে মানুষের কল্যাণসাধন। রাষ্ট্র দেখবে যৌক্তিক ব্যাখ্যামূলক কার্যকলাপের বিজয়। সচেতন যেকেনো নাগরিক রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ডে(বিচার দাবি বা বিচার প্রক্রিয়ায়) নিজেকে ‘মানুষ ‘ কিংবা জনগণই ভাববে কেবল । সংখ্যাগরিষ্ঠতার শক্তি বলে যেমন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় নিজেদের নীতি,আদর্শ বাস্তবায়ন করার প্রচেষ্টা এবং নিজেরাই রাষ্ট্রের সর্বেসর্বা ভাবা মুর্খামি। তেমনি আস্তিক নাস্তিকতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপের ক্ষেত্রে কাউকে বিবেচনা করাও ভন্ডামি। রাষ্ট্রের নিজস্ব একটা যৌক্তিক ব্যাখ্যামূলক পরিচালনা প্রক্রিয়া আছে এবং রাষ্ট্রকে সেই প্রক্রিয়া মোতাবেক চলাটাই বাঞ্চনীয়।
আর সচেতন নাগরিক সেটাই মেনে চলে এবং প্রত্যাশা করে।

সব্যসাচী ইমন

Share This Information