বাগেরহাট যাবো । বাগেরহাট দর্শনীয় স্থান । রাত্রি যাপন । প্রিয় খাবার সহ ইত্যাদি

বাংলাদেশের বাগেরহাট দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা বিভাগের অন্তর্গত বাগেরহাট জেলায় আপনাকে স্বাগতম। বাগেরহাট ভ্রমণ হোক আনন্দের সাথে।

পরিচিতি- বাগেরহাট

বাগেরহাট জেলা বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ বৃহত্তর জেলা। বাগেরহাট নামকরণ নিয়ে প্রবাদ ও কিংবদন্তি প্রচলিত আছে। ফারসি বাগ শব্দের অর্থ বাগান। সুতরাং বাগেরহাট শব্দের অর্থ বাগানের হাট।  এ জেলার উত্তরে গোপালগঞ্জ, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে পিরোজপুর ও বরগুনা এবং পশ্চিমে খুলনা জেলা অবস্থিত। এ শহরটি মসজিদ জন্য বিখ্যাত। এখানে রয়েছে ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ। এই জেলায় উপজেলার সংখ্যা ৯টি । বাগেরহাট প্রথম বসতি স্থাপন করে অনার্য শ্রেণীর মানুষ যারা ভূমধ্য সাগরীর অঞ্চল হতে আসা অস্ট্রিক ও দ্রাবিড় এবং মঙ্গোলীয় আলপাইন প্রভৃতি। বাগেরহাট জেলার মানুষ প্রধানত কৃষি নির্ভরশীল এই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে নারিকেল ও সুপারি জন্মে। বাগেরহাটে অসংখ্য নদী রয়েছে মধুমতি নদী, পশুর নদী, হরিণঘাটা নদী, পানঘুছি নদী, দড়াটানা নদী, মোংলা নদী, বগুড়া নদী, বলেশ্বর নদী, ভাংগ্রা নদী ও গোসাইরখালী নদী। এখানে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব রয়েছেেআব্দুল জাব্বার জাহানাবাদী (শিক্ষাবিদ), মতিউর রহমান মল্লিক (কবি ও সাহিত্যিক), লিয়াকত আলী খান (খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা), শেখ আবদুল আজিজ (রাজনীতিবিদ) , রুবেল হোসেন (খেলোয়াড়) ইত্যাদি।



যেভাবে যাবেন-

আপনি যে এলাকা থেকে ‍বাগেরহাট আসতে চাচ্ছেন। সেই এলাকার নাম এবং যেখানে যাবেন (বাগেরহাট) সিলেক্ট করে আমাদের ওয়েবসাইটের হোম পেইজে সার্চ করুন। আমাদের ওয়েবসাইট (কেমনে যাবো ডট কম)-এ পাবেন, বাস কাউন্টার লোকেশন এবং ফোন নাম্বার, বাসের ভাড়া, বাসের ধরণ (এসি / নন-এসি) এবং সক্ষিপ্ত ইতিহাস।

দর্শনীয় স্থান সমূহ-

আকর্ষনীয় দর্শনীয় স্থান সমূহের মধ্যে রয়েছে-

ষাট গম্বুজ মসজিদ-

এই জেলায় অবস্থিত ষাট গম্বুজ মসজিদ (Shaat Gombuj Mosque) বাংলাদেশের একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম যা ১৯৮৩ সালে বাগেরহাট শহরটিকেই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয় ইউনেস্কো।
ষাট গম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গনে প্রবেশ করতে জনপ্রতি ২০ টাকা দিয়ে টিকেট করতে হয়। বাগেরহাট সদর থেকে সিএনজি বা রিকশা নিয়ে সোজা ষাট গম্বুজ মসজিদ যাওয়া যায়।

দুবলার চর-

এই জেলায় অবস্থিত দুবলার চর যেখানে রয়েছে ছোট্ট একটি সুন্দর দ্বীপ। দুবলার চরে হিন্দুধর্মালম্বীদের পূণ্যস্নান, রাসমেলা এবং হরিণের জন্য সর্বাধিক পরিচিত। দুবলার চরে সকল পরিবারই মৎস্যজীবী তার সবাই একে মাছ ধরে পাশাপাশি শুঁটকি তৈরির কাজ করে। এই জেলার সদর থেকে মংলা বন্দর সেখানে এসে দুবলার চরে যাবার জন্য নৌযান করে যেতে হবে।



মংলা বন্দর-

এই জেলায় রামপাল উপজেলায় সেলাবুনিয়া মৌজায় পশুর ও মোংলা নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত মংলা বন্দর বা মংলা পোর্ট। বন্দরটি বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ১০০ কি.মি উত্তরে অবস্থিত। যেখানে পন্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। বাগেরহাট থেকে কাটাখালি বাস স্ট্যান্ডে এসে সেখান থেকে মংলাগামী বাসে চড়ে সোজা মংলা বন্দরে যাওয়া যায়।

কচিখালী সমুদ্র সৈকত-

বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যে্যর লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত কচিখালী সমুদ্র সৈকত । যেখানে রয়েছে হরিণের পাল, বন্য শুকর, বাঘ ইত্যাদি এছাড়াও কটকা নদীর মোহনায় কুমির, শুশুক ও ডলফিনের মতো জলজ প্রাণী দেখতে পাওয়া যায়।সদর থেকে বাসে করে কচিখালী সমুদ্র সৈকত যাওয়া যায়।

কোদলা মঠ-

বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের অযোধ্যা গ্রামে অবস্থিত অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন কোদলা মঠ অবস্থিত। এটি মূলত বাগেরহাটের রাজা প্রতাপাদিত্যের স্মৃতি এবং বাংলার সমৃদ্ধ হিন্দু ঐতিহ্য ও স্থাপত্যশিল্পের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। বাগেরহাট সদর থেকে রিকশা বা অটো নিয়ে যাত্রাপুর বাজারে নেমে প্রাচীন ভৈরব নদীর পূর্ব দিকে ৩ কি.মি দূরে অবস্থিত কোদলা মঠ।

বাগেরহাট জাদুঘর-

বাগেরহাট জেলার সুন্দরঘোনায় ষাট গম্বুজ মসজিদের দক্ষিণ পূর্ব কোণে বাগেরহাট জাদুঘর অবস্থিত। যেখানে রয়েছে মুসলিম সংস্কৃতি ও খানজাহান আলীর স্মৃতি। এছাড়া উল্লেখযোগ্য স্মৃতিচিহ্ন, মুদ্রা, বাসন, তৈজসপত্র, মানচিত্র এবং লিপিবদ্ধ ইতিহাস। সদর থেকে অটো বা রিকশা বা লোকা বাসে করে বাগেরহাট জাদুঘরে যেতে পারবেন।

খান জাহান আলীর মাজার-

বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত খান জাহান আলীর মাজার যা খান জাহান আলী (রা) এর জন্ম ভারতে হলেও বাংলাদেশের যশোর, বাগেরহাট অঞ্চলে তিনি ধর্ম প্রচার করতে আসে সেই কারণে তার মাজার এখানে অবস্থিত।
খুলনা-বাগেরহাট রোড থেকে ৩০০ গজ দূরত্বে খান জাহান আলীর মাজার অবস্থিত।

সিঙ্গাইর মসজিদ-

বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন জনপদ বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত সুন্দরঘোনা ঘোনা গ্রামে সিঙ্গাইর মসিজদ। এটি মুঘল শাসনামলে পঞ্চদশ শতকে খান জাহান আলী (রা) এই ঐতিহাসিক এক গম্বুজ মসজিদ নির্মাণ করেন। সদর থেকে সিএনজি করে সিঙ্গাইর মসজিদে যাওয়া যায়।

নয় গম্বুজ মসজিদ-

বাগেরহাটের ঠাকুর দীঘির পশ্চিম পাড়ে ঐতিহাসিক নয় গম্বুজ মসজিদ অবস্থিত। এখানে রয়েছে মসজিদটির ছাদে নয়টি অর্ধ বৃত্তাকার গম্বুজ।

খুলনা-বাগেরহাট রোড থেকে ৩০০ গজ দূরত্বে নয় গম্বুজ মসজিদ অবস্থিত।

অন্যান্য দর্শনীয় স্থানঃ

  • চন্দ্রমহল ইকো পার্ক।
  • সাত গম্বুজ মসজিদ।
  • দশ গম্বুজ মসজিদ।
  • এক গম্বুজ মসজিদ।
  • পচাদীধি।
  • ঘোড়াদীঘি।
  • সোনা মসজিদ ইত্যাদি।

যেখানে রাত্রিযাপন-

  • ৩০০ টাকার রুম থেকে বিলাস বহুল রুম ভাড়া পাবেন। তন্মধ্যে সার্কিট হাউজ, ডাক বাংলো, হোটেল আল-আমিন, হোটেল মহনা, হোটেল সুকান্ত, হোটেল ফুয়াদ, রেসিডেন্সিয়াল হোটেল, হোটেল পশুর মনগ্লা, হোটেল কাস্টল সালাম  ইত্যাদি ইত্যাদি।
  • রুম বুকিং করতে পারেন – বুকিং রুম।

যেখানে খাবেন

  • এই শহরের এর খাবার? ———> এই শহরে বিখ্যাত নারিকেল ও সুপারি।
  • এই শহরের জনপ্রিয় খাবার হল মধু ।
  • যে খাবার এখানে বেশি পরিমাণে পায়া মাছ, বিভিন্ন জাতের সবজি।
  • এই শহরে দু’কদম হাটলেই  বিভিন্ন রেষ্টুরেন্ট, ক্যাফে, হোটেলে খাবার জুটে।

পছন্দের কেনাকাটা 

  • নিউ আল-মদিনা ট্রেডিং, নিউ মার্কেট, জিউধারা বাজার, কালাম সর্দার মার্কেট, বরাকপুর বাজার, কেবি ফিস মার্কেট, সফি মার্কেট ইত্যাদি।
  • এই শহরে কেনকাটা হোক আনন্দের সাথে।

কোথায় গাড়ি পাব? কাউন্টার কোথায়? গাড়ি না পেলে কী করবো?  রাতে কী গাড়ি পাব? থাকার জায়গা পাব? রেস্টুরেন্ট খোলা থাকবে?

  • এই শহরের যে প্রান্তে আসবেন না কেন? কিংবা যেখানে থাকেন না কেন? আপনি খুব সহজেই আপনার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। সব স্টেশনে আপনি কাউন্টার পাবেন। প্রতিটা ষ্টেশনে বিভিন্ন বাস কাউন্টার রয়েছে। তাদের সাথে যোগাযোগ করলে আপনার গন্তব্যের ঠিকানা খুঁজে নিতে পারবেন।
  • বাস স্ট্যান্ড ২৪ ঘণ্টা যাতায়াত ব্যবস্থা খোলা থাকে। আপনি নিচের দিকে স্ক্রল করলে বাসের ঠিকানা পেয়ে যাবেন।
  • প্রতিটা স্টেশনে, অলি-গলিতে আপনার থাকার ব্যবস্থার য়েছে। উপরে লিংকে প্রবেশ করে রুম বুক করতে পারেন।





বাংলাদেশের জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানসমূহের তথ্য (কাউন্টার লোকেশন ও ফোন নাম্বার, ভাড়া, বাসের ধরণ (এসি / নন-এসি) এবং এরিয়ার পরিচিতি, যেখানে থাকবেন এবং খাবেন) পেতে এই লিংকে ক্লিক করুন।