মেহেরপুর যাবো । দর্শনীয় স্থান । কোথায় রাত্রি যাপন । বিখ্যাত খাবার সহ ইত্যাদি

নীলকর ও নীলচাষের দীর্ঘ ইতিহাস, কাঁচা-পাকা আম,সাবিত্রী, রসকদম্ব,আমড়ার জন‍্য বিখ্যাত এবং অসংখ্য ঐতিহাসিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ মেহেরপুর সদর উপজেলা সম্পর্কে জেনে নিই।

পরিচিতি –

মেহেরপুর সদর উপজেলা বাংলাদেশের মেহেরপুর জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা। সদর উপজেলা উত্তরে গাংনী ও ভারত, দক্ষিণে মুজিবনগর উপজেলা পূর্বে গাংনী ও চুয়াডাঙ্গা জেলা এবং পশ্চিমে ভারত দ্বারাবেষ্টিত। ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে মেহেরপুর থানা উপজেলায় উন্নীত হয়। মেহেরপুর নামকরণের পিছনে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। দরবেশ মেহের আলীর নামানুসারে এই এলাকার নামকরণ করা হয় মেহেরপুর। আবার কারো কারো মতে খনার পতি মিহির এর নাম হতে মেহেরপুর নামকরণ করা হয়। অন‍্য একটি প্রবাদ মতে, মোহর থেকে মেহের নামের উৎপত্তি। মোহর শব্দের অর্থ মৃল‍্যবান ধাতু বা সম্পদ। এখানে বসবাসকারী দরবেশগণ স্থানীয়দের কাছে ছিলেন মোহরস্বরূপ। তাই এই এলাকার নাম হয় মেহেরপুর। এ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন (কুতুপপুর,আমঝুপি,বুড়িপোতা,আমদহ,পিরোজপুর) রয়েছে।



যেভাবে যাবেন-

আপনি যে এলাকা থেকে মেহেরপুর আসতে চাচ্ছেন সেই এলাকার নাম এবং যেখানে যাবেন ( মেহেরপুর ) সিলেক্ট করে আমাদের ওয়েবসাইটের হোম পেইজে সার্চ করুন। আমাদের ওয়েবসাইট (কেমনে যাবো ডট কম)এ পাবেন, বাস কাউন্টার লোকেশন এবং ফোন নাম্বার,বাসের ভাড়া,বাসের ধরন (এসি/নন-এসি) এবং সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

মেহেরপুর দর্শনীয় স্থানসমূহ-

আপনার ভ্রমণ তৃষ্ণা মেটাতে এই অঞ্চলে রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান।
মেহেরপুরের আকর্ষণীয় স্থান সমূহের মধ‍্যে রয়েছে –

আমঝুপি নীলকুঠিঃ

ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজরা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে নীল চাষের জন‍্য অসংখ্য নীলকুঠি গড় তোলে। এর মধ‍্যে আমঝুপি নীলকুঠি অন‍্যতম। ইতিহাসবিদের মতে,খুব সম্ভবত ১৮০০ এর দশকে এই নীল কুঠি গড়ে তোলা হয়। আমঝুপি গ্রামের কাজলা নদীর কোল ঘেঁষে সবুজ শ‍্যামলে ঘেরা ৭৭ একর জমির উপর এই কুঠির অবস্থান। আমঝুপি নীল কুঠির সামনে বাধাঁই করা স্বর্ণালি ইতিহাস থেকে জানা যায়। ১৯৭৮ সালে ১৩ মে তারিখে খুলনা বিভাগ উন্নয়ন বোর্ডের আমঝুপি অধিবেশনের সভায় নীলকুঠিটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৭৯ সালে আমঝুপি নীলকুঠি পুননিমার্ণ ও একটি আম বাগান গড়ে তোলা হয়। ইতিমধ্যে কুঠিবাড়ি ঘিরে কৃত্রিম লেক, ঝর্ণাধারা, বিভিন্ন পশু-পাখির প্রতিমূর্তি, খেলাধুলার সরঞ্জাম, পানি, পয়-নিষ্কাশনের ব‍্যবস্থাসহ চলাচলের রাস্তা ও বাহারি সব ফুলের বাগান করা হয়েছে।
কিভাবে যাওয়া যায়: মেহেরপুর সদর থেকে ৬ কি.মি. পূর্বে এটি অবস্থিত।ঢাকা থেকে সরাসরি মেহেরপুর বাসে করে যাওয়া যায়।মেহেরপুর সদর থেকে বাস, মোটরসাইকেল, রিক্সা এর সাহায্যে ২৫মিনিট এর মধ‍্যে পৌছানো যায়।

আমদহ গ্রামের স্থাপত্য নিদর্শনঃ

মেহেরপুর জেলার অত্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্ন নিদর্শন মেহেরপুর শহর থেকে ৪ কিঃমিঃপূর্ব-দক্ষিণে অবস্থিত আমদহ গ্রামের স্থাপত্য কীর্তি। প্রায় এক বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই প্রত্নস্থানের চারিদিকে ছিল পরীখা, কিন্তু পরিখার বেষ্টনীতে কোন প্রাচীর ছিলনা। এখন এই প্রত্নস্থানের কোন চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে এখানকার মাটির নীচ থেকে উদ্ধার করা একটি প্রত্নস্তম্ভ পুরাতন জেলা প্রশাসক ভবনের সামনে স্থাপন করা হয়েছে।
কিভাবে যাওয়া যায়: মেহেরপুর জেলা সদরে এটি অবস্থিত। বাস টার্মিনাল হতে রিক্সা/ভ‍্যানে যোগে যাওয়া যায়।



স্বামী নিগমানন্দের আশ্রমঃ

মেহেরপুর সদর উপজেলার আরেকটি উল্লেখযোগ্য পর্যটন স্থান হচ্ছে স্বামী নিগমানন্দ আশ্রম। হিন্দুধর্মের মহান সংস্কারক নিগমানন্দ সরস্বতীর জন্ম ১২৮৭ বঙ্গাব্দে রাধা গোবিন্দপুর গ্রামে। তার পৈতৃক নিবাস মেহেরপুরের কুতুবপুর গ্রামে। শ্রীচৈতন্য ও শংকরের দর্শনের সমম্বয়ে এক নতুন ধর্মমত প্রতিষ্ঠাকরেন। স্বামী নিগমানন্দ গৃহী হয়েও ছিলেন সন্ন্যাসী ও মানবের প্রেমে ব্যাকুল এক সাত্ত্বিক পুরুষ। ১৮ শতকের দিকে মেহেরপুর শহরে রাজা গোয়ালা চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত করেন আটচালা শিবমন্দির। মন্দিরটি বর্তমানে নিগমানন্দ সরস্বতী ভাবাদর্শে অনুপ্রাণিত সরস্বতী আশ্রম হিসেবে কাজ করছে।
কিভাবে যাওয়া যায়: মেহেরপুর জেলা সদর থেকে সড়ক পথে দূরত্ব প্রায় ১২ কি: মি:। বাস, স্থানীয় যান টেম্পু/লছিমন/করিমন এর সাহায্যে ৪০ মি: সময়ে স্বামী নিগমানন্দ আশ্রমে পৌঁছানো যায়।

বল্লভপুর চার্চ ভবের পাড়াঃ

১৯২৪ সালে ভবেরপাড়ায় রোমান ক্যাথলিক চার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়। ইংরেজ আমলে নির্মিত বল্লভপুর চার্চ, ভবেরপাড়া রোমান ক্যাথলিক চার্চ এর নির্মাণশৈলীতে পাশ্চাত্য রীতি অনুসরণ করা হয়নি। এতে দেশীয় স্থাপত্যরীতি অনুসরণ করা হয়। তবে প্রযুক্তি ও স্টাইলে ইউরোপীয় স্থাপত্যশিল্পের প্রভাব ছিল।
কিভাবে যাওয়া যায়: মেহেরপুর সদর বাসস্ট্যান্ড হতে বাসযোগে মুজিবনগর। এরপর রিকশা বা অটোরিকশাযোগে যাওয়া যায়।

ভাটপাড়া নীলকুঠি ও ডিসি ইকো পার্কঃ

মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার সাহারাবাটি ইউনিয়নের ভাটপাড়ায় ঐতিহাসিক ভাটপাড়া নীলকুঠি অবস্থিত। ১৮৫৯ সালে স্থাপিত ধ্বংস প্রায় এই নীলকুঠিটি ইট,চুন-শুরকি দ্বারা নিমার্ণ করা হয়। প্রায় ২৭একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ভাটপাড়া কুঠির বতর্মান আয়তন কমে গেলেও অবশিষ্ট জায়গাতে ২০১৭ সালে মেহেরপুর জেলি প্রশাসক ডিসি ইকো পার্ক প্রতিষ্ঠা করেন। এই পার্কে কৃত্রিম লেক, বিভিন্ন প্রাণীর ভাস্কর্য, ঝর্ণা, খেলাধুলার সরঞ্জাম এবং ফুশের বাগান রয়েছে।
কিভাবে যাওয়া যায়: মেহেরপুর জেলা সদর থেকে সড়ক পথে দূরত্ব ১৭কি:মি:। বাস,স্থানীয় যান টেম্পু/লছিমন এর সাহায‍্যে ৪০কি:মি: সময়ে ভাটপাড়া নীলকুঠিতে পৌঁছানো যায়।

অন‍্যান‍্য দর্শনীয় স্থান

  • মেহেরপুর শিব মন্দির,মেহেরপুর,
  • হীরুমোল্লার মসজিদ,বরকান্দজ পাড়া,
  • সাহারাবাটি নীলকুঠি,
  • ভবানন্দপুর মন্দির,
  • আমদহ শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী মন্দির,
  • দরবেশ মেহেরুল্লার মাজার,
  • কালাচাদপুর কালীতলার মন্দির

যেখানে রাত্রিযাপনঃ

  • ফিন টাওয়ার আবাসিক হোটেল, বাসস্ট্যান্ড, মেহেরপুর। ফোনঃ 01736-647961,
  • অনাবিল হোটেল, বড় বাজার, প্রধান সড়ক,মেহেরপুর। ফোনঃ 01712-287703.
  • শাহজাদী হোটেল বাসস্ট্যান্ড রোড়, মেহেরপুর। ফোনঃ 01717-482434.
  • রুম ডট কম- বুকিং রুম



যেখানে খাবেনঃ

  • মেহেরপুরের বিশেষ খাবারের মধ‍্যে রয়েছে ”সাবিত্রী” ও “রসকদম্ব” নামক মিষ্টি। দেশের আর কোথাও এই মিষ্টি বিক্রিয় করা হয় না। আর আমের মৌসুমে মেহেরপুর গেলে পাকা আম খেতে ভুল করবেন না।
কোথায় গাড়ি পাব? কাউন্টার কোথায়? গাড়ি না পেলে কী করবো? রাতে কী গাড়ি পাব? থাকার জায়গা পাব? রেস্টুরেন্ট খোলা থাকবে?
  • মেহেরপুরের এর যে প্রান্তে আসবেন না কেন, কিংবা যেখানে থাকেন না কেন? আপনি খুব সহজেই আপনার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। সব স্টেশনে আপনি কাউন্টার পাবেন। প্রতিটা ষ্টেশনে বিভিন্ন বাস কাউন্টার রয়েছে। তাদের সাথে যোগাযোগ করলে আপনার গন্তব্যের ঠিকানা খুঁজে নিতে পারবেন।
  • আপনার কাউন্টার খুঁজে পেতে আমাদের নিচের বাস কাউন্টার নাম্বার সংগ্রহ করে যোগাযোগ করলে আপনাকে নির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে দিবে।
  • বাস স্ট্যান্ড ২৪ ঘণ্টা যাতায়াত ব্যবস্থা খোলা থাকে। আপনি নিচের দিকে স্ক্রল করলে বাসের ঠিকানা পেয়ে যাবেন।
  • প্রতিটা স্টেশনে, অলি-গলিতে আপনার থাকার ব্যবস্থার রয়েছে। উপরে লিংকে প্রবেশ করে রুম বুক করতে পারবেন।

মেহেরপুর সদর উপজেলার ইতিহাস এর মতো বাংলাদেশের জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানসমূহের তথ্য (কাউন্টার লোকেশন ও ফোন নাম্বার, ভাড়া, বাসের ধরণ (এসি / নন-এসি) এবং এরিয়ার পরিচিতি, যেখানে থাকবেন এবং খাবেন) পেতে এই লিংকে ক্লিক করুন।